এখানে একটি জনপ্রিয় গল্প তুলে ধরা হলো: গল্প: সৎপত্নী ও কপালপাত্র

 

এখানে একটি জনপ্রিয় গল্প তুলে ধরা হলো:
গল্প: সৎপত্নী ও কপালপাত্র
একদিন বিক্রমাদিত্য শ্মশানে বেতালকে নিয়ে চললেন। বেতাল তার অভ্যাসমতো গল্প বলা শুরু করল।
এক গ্রামে ছিল এক দারিদ্র্যপীড়িত ব্রাহ্মণ। তার এক সুন্দরী স্ত্রী ছিল। একদিন সেই ব্রাহ্মণ কাজের সন্ধানে অন্য গ্রামে গেল। স্ত্রী একা বাড়িতে থাকত। তার রূপ দেখে গ্রামের এক দুষ্ট লোক তাকে ভুল পথে চালানোর চেষ্টা করল। কিন্তু সেই স্ত্রী সততার প্রতীক ছিল। সে তাকে প্রত্যাখ্যান করল।
পরদিন, সেই লোক ক্রোধে মহল্লায় প্রচার করল যে ব্রাহ্মণের স্ত্রী খারাপ। এই অপবাদ শুনে ব্রাহ্মণের স্ত্রী অপমানিত বোধ করল। নিজের সতীত্ব প্রমাণের জন্য সে সিদ্ধান্ত নিল, সে তার স্বামীর সামনে নিজেকে প্রমাণ করবে।
একদিন ব্রাহ্মণ বাড়ি ফিরে এলে স্ত্রী তাকে সব জানিয়ে বলল, "তুমি যদি মনে করো আমি খারাপ, তবে আমাকে ছেড়ে দাও।" ব্রাহ্মণ জানাল, "আমি তোমার সতীত্ব জানি।"
গল্পের শেষে বেতাল প্রশ্ন করল:
"রাজা, বলো, এই পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণ স্ত্রীকে কি করা উচিত ছিল?"
বিক্রমাদিত্য উত্তরে বললেন:
"স্ত্রী তার স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত ছিল, তার কাজের জন্য তাকে সম্মান করা উচিত। সেই মিথ্যা অপবাদ সমাজে ছড়ানো ব্যক্তি শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। ব্রাহ্মণের উচিত তার স্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো।"
বেতাল খুশি হয়ে আবার উড়ে গেল, এবং বিক্রমকে আবার ধরতে শ্মশানের পথে ফিরে যেতে হলো।
এইভাবে বিক্রমাদিত্য ও বেতালের গল্পে প্রতিটি কাহিনির মাধ্যমে বুদ্ধিমত্তা ও নৈতিক শিক্ষার দিক নির্দেশ করা হয়েছে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন