নিশির ডাক
এক ভয়ংকর বাংলা ভূতের গল্প
প্রথম অধ্যায়: অশুভ গ্রামের শুরু
নদীর ধারে ছোট্ট গ্রাম শালবন। দিনের বেলায় শান্ত, সবুজ আর পাখির কলতানে ভরা। কিন্তু সূর্য ডুবলেই গ্রামের মানুষ দরজা-জানালা বন্ধ করে দিত। কারণ গ্রামের শেষ প্রান্তের পুরনো বটগাছটার দিকে কেউ যেত না।
“রাতে যদি কেউ তোমার নাম ধরে ডাকে... পিছনে তাকাবি না...”
এই সতর্কবাণী ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছে অরিজিৎ। কিন্তু শহর থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফিরে এসে সে এসব কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিল।
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রথম নিশির ডাক
এক অমাবস্যার রাতে, প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মাঝে হঠাৎ সে শুনল—
“অরিজিৎ... অরিজিৎ... দরজা খোল...”
কণ্ঠটা ছিল তার মৃত মায়ের। বুকের ভিতর কাঁপন শুরু হলেও, সে ভাবল—হয়তো ভুল শুনছে।
আবার সেই ডাক— এবার আরও কাছে।
“বাবা... আমি এসেছি...”
দরজার নিচ দিয়ে কাদামাখা জল গড়িয়ে ঘরে ঢুকতে লাগল।
তৃতীয় অধ্যায়: জানালার ওপারে
সাহস করে জানালার ফাঁক দিয়ে তাকাতেই তার শরীর জমে গেল।
অরিজিৎ চিৎকার করতে গিয়েও পারল না। গলা যেন কেউ চেপে ধরেছে।
চতুর্থ অধ্যায়: বটগাছের অভিশাপ
পরদিন গ্রামের বৃদ্ধ হরিপদ কাকা জানালেন, বহু বছর আগে ওই বটগাছে এক গর্ভবতী নারী আত্মহত্যা করেছিল। তারপর থেকেই সে নিশি হয়ে মানুষ ডাকে— প্রিয়জনের কণ্ঠে।
“যে সাড়া দেয়... সে আর ফেরে না...”
পঞ্চম অধ্যায়: শেষ রাত
অরিজিৎ সিদ্ধান্ত নিল, আজ সত্যিটা দেখবেই।
রাত বারোটায় সে বটগাছের কাছে গেল। চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎ ঠান্ডা হাওয়া... তারপর একসাথে শত কণ্ঠের ফিসফিস—
“এসেছো...?”
গাছের ডাল থেকে ঝুলছিল অসংখ্য সাদা মুখ। সবগুলোর চোখ খোলা। আর মাঝখানে— তার নিজের মুখ!
পরদিন সকালে গ্রামের লোক শুধু তার জুতোজোড়া খুঁজে পেল। বটগাছের নিচে।
উপসংহার
আজও শালবন গ্রামে রাত গভীর হলে ঝড়ের মধ্যে কেউ কেউ শুনতে পায়—
“দরজা খোল... আমি এসেছি...”
আর গ্রামের মানুষ আজও জানে— নিশির ডাকে সাড়া দেওয়া মানেই মৃত্যু।
SEO Hashtags
#ভূতেরগল্প #নিশিরডাক #বাংলাহরর #GhostStory #BengaliHorrorStory #ScaryStory #SubrataMajumder #BanglaBhoutGolpo
