শ্রীশ্রীঠাকুর অধিকাংশ সময়ই ভগবৎ প্রসঙ্গ নিয়ে থাকতেন।ভক্তগণ সাধারণ বিষয়ে অবতারণা করলেও তিনি তাঁহার দিব্যদৃষ্টিতে গূঢ়তত্ত্ব দ্বারা উহার বিশ্লেষণ করতেন। ঠাকুর সহজভাবে তত্ত্বকথার মীমাংসা করতেন, কিন্তু ভক্তগণ উহা আড়ষ্ঠ ও দুর্বোধ্য মনে করতেন। নাম মাহাত্ম্য, সাধন তত্ত্ব,ভগবৎলীলা,বৃন্দাবনলীলা,রাসলীলা প্রভৃতির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও আলোচনা যে ভাবে ও ভাষায় প্রকাশ করতেন, তাহা সাধারণের পক্ষে কেন,বৈদান্তিকগণের কাছেও দুরূহ বলে মনে হত।
একটি সাধু ঠাকুরের তথ্যপূর্ণ উপদেশাবলি ও বেদান্তের আলোচনা প্রসঙ্গে একদিন বলেছিলেন, 'তোমরা ঐ সকল তত্ত্ব বুঝবার চেষ্টা করলেও ঠিক ঠিক অনুধাবন করতে পারবে না।কেন না, মহাপুরুষগণ ভাবমুখে অনেক কথা বলে থাকেন; ঐ সকল তত্ত্ব সাধারণ মানুষের কাছে এলোমেলো মনে হয়। তাঁরা কখন কোন স্তরে থাকেন এবং কোন রহস্যের ইঙ্গিত করেন,তা সংসারের মায়াবদ্ধ জীব কেমন করে বুঝবে?
এম,এ ক্লাসে সুবিজ্ঞ অধ্যাপক অধ্যাপক দর্শনশাস্ত্রের যে ব্যাখ্যা করেন, তা কি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন ছাত্রের পক্ষে সম্যক উপলব্ধি করা কখনো সম্ভব?
একদিন জনৈক তর্কতীর্থ উপাধিকারী বিখ্যাত পন্ডিত ঠাকুরের মুখে রাসলীলার ব্যাখ্যা শুনছিলেন।কিছুক্ষণ অখন্ড মনোযোগের সহিত লীলারহস্য হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টা করে পণ্ডিত মহাশয় করজোড়ে নিবেদন করলেন,
"প্রভু, আর পারছি না,আমার মস্তিষ্ক ঠিক ঠিক তত্ত্বটি ধারণা করতে পাচ্ছে না।বারান্তরে আবার আমার কৌতুহল নিবৃত্ত করবেন।''
অগত্যা ঠাকুরকে মাঝপথে রসভঙ্গ করে থামতে হলো।
শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্রদেব
শ্রী সুশীল চন্দ্র দত্ত
বি এ বি টি
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: