ত্রিশ পেরোনো নারীর জীবন – এক নীরব সংগ্রাম
বয়ঃসন্ধি শব্দটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—ত্রিশের পরের জীবনটাকে আমরা কোনো নামই দিইনি। অথচ এই বয়সটাও একরকম নতুন জন্ম। বুড়ো না, আবার তরুণও না। সংসার, দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা—সবকিছু মিলে এটি এক অদ্ভুত বয়স।
ত্রিশ পেরোনো নারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অন্তত ৬–৭ বছরের সংসারী। কারো দুই-তিন সন্তানের মা হয়ে যাওয়ার পরও ভেতরের কিশোরী মনটা রয়ে যায় ঠিকই। সেই কিশোরী মনকে দমিয়ে রাখার ক্লান্তিকর চেষ্টার মধ্যেই কেটে যায় প্রতিদিন।
দিন শেষে যখন রান্নাঘর নিভে যায়, অফিসের ফাইল গুছিয়ে রাখা হয়, তখন মনের কোণে জমা হয় না পাওয়া গল্পগুলো। সংসারের লোকজন? তারা তো সবাই ব্যস্ত। বন্ধুত্ব নেই বললেই চলে। একসময় যে বন্ধুত্বগুলো প্রাণের সমান ছিল, ত্রিশ পেরোনো জীবনে সেগুলো কেবল স্মৃতির পাতায় আটকে থাকে।
ত্রিশের পর নারীরা এক অদ্ভুত রোগে ভোগে—নস্টালজিয়া। শৈশব, কৈশোর, কলেজজীবন, প্রথম প্রেম, বৃষ্টিভেজা দুপুর—সবকিছু অকারণেই মনে পড়ে যায়।
রাতের অন্ধকারে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে অচেনা লাগে। চুল পড়ে গেছে, মুখে বলিরেখা, শরীরে মেদ—সব মিলিয়ে একসময়কার মেদহীন সুন্দরী শরীরটা কেবল স্মৃতিতে রয়ে যায়।
ত্রিশ পেরোনো নারীরা হঠাৎ প্রেমে পড়তে চায় না। তারা আসলে চায় একজন শ্রোতা—যে কোনো জাজমেন্ট ছাড়াই সব কথা শুনবে। সংসারে থাকা মানুষটিকেই আবার নতুন করে পেতে চায়। চোখের তারা হয়ে থাকার সাধ আবার জাগে।
মনের চাহিদা
ত্রিশ পেরোনো নারীর মনের সবচেয়ে গভীর চাহিদা হলো যত্ন। তারা খুব সামান্য কিছুই চায়—কেউ যদি বলে “আজ তোমাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে” বা “তুমি অনেক কষ্ট করো”—এটুকুই তার কাছে বিশাল প্রাপ্তি।
সমাজ তাকে নানা নামে ডাকতে ভালোবাসে—মা, স্ত্রী, কর্মজীবী নারী। কিন্তু তার ভেতরের মানুষটিকে চেনে কয়জন? এই বয়সে নারীরা শুধু দায়িত্ব নয়, একটু যত্ন, একটু বোঝাপড়াও প্রাপ্য।
আমরা যদি সেটা মনে রাখতে পারি, তবে ত্রিশ পেরোনো জীবনের নাম হয়তো একদিন পাওয়া যাবে—আর সেই নাম হবে আত্মিক পরিপূর্ণতার আরেক নাম।
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৫
Rating:

.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: